পৃথবীর রহস্যময় ৫টি দ্বীপ

পৃথিবীটা এতই বড় আর রহস্যময় যে ব্যাখাতিত রহস্যের অফুরন্ত ভান্ডার শেষ হওয়ার নয়।পৃথিবীর সবচাইতে বেশি রহস্য লুকিয়ে আছে সমুদ্রে।সমুদ্রের অভ্যন্তরে শুধু রহস্য লুকিয়ে আছে তা না, রহস্য লুকিয়ে আছে সমুদ্রের মাঝে জেগে উঠা দ্বীপগুলোতেও। আজকের ভিডিওতে এমনই ৫ টি রহস্যময় দ্বীপের কথা বলবো যার রহস্য আপনাদের মাথা ঘুরিয়ে দিতে যথেষ্ট। তো চড়ে বসুন রহস্যজালের জাহাজে আর ঘুরে আসুন রহস্যময় সেই দ্বীপগুলো থেকে।আর হ্যাঁ আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব না করে থাকলে এখনই করে ফেলুন আর নতুন ভিডিওর নোটিফিকেশন পেতে পাশে থাকা বেল আইকনটি ক্লিক করুন। আপনি তৈরি তো চলুন শুরু করা যাক।

১. The Socotra Island:
আরব সাগরে অবস্থিত এই দ্বীপটিতে আসলে মনে হবে আপনি স্পেসশিপে করে পৃথিবীর বাইরে কোনো জগতে এসে পড়েছেন।দ্বীপটির আরেকনাম ভীনগ্রহের দ্বীপ।দ্বীপটি তার রহস্যময় গাছপালার জন্য বিখ্যাত।এখানকার গাছপালাগুলোর গঠন এতই অদ্ভূত যে পৃথিবীর অন্য কোথাও এরকম গঠনের গাছপালা দেখতে পাওয়া যায় না।প্রায় ৮২৫ প্রজাতির প্রাণের সন্ধান পাওয়া গেছে এ দ্বীপটিতে।দ্বীপটিতে টিকে থাকা প্রাণীদের মধ্যে ৯০ ভাগ প্রাণীই পৃথিবীর অন্যকোথাও দেখতে পাওয়া যায়না। এই দ্বীপে Dragon’s blood tree এবং Rod  নামে একহাজার বছরের পুরনো ছাতার মত অদ্ভূত গাছ এ দ্বীপে বেশি জন্মায়। একটি ১২৫ কিঃমিঃ দীর্ঘ এই দ্বীপে ২০১০ সালে রাশিয়ার একদল গবেষক সর্বপ্রথম দ্বীপটিতে গবেষণা চালায়।অল্প কিছু পরিবার এ দ্বীপটিতে বসবাস করে আসছে অনেক দিন ধরে।মজার ব্যাপার হচ্ছে দ্বীপে বসবাসকারী মানুষের ডিএনএ-তে এমন একটি অদ্ভূত বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে যার সাথে পৃথিবীর অন্য প্রান্তের মানুষের ডিএনএর কোনো মিল নেই।

২. Isla Barmuja: আমরা বিভিন্ন ম্যাজিক শো তে দেখেছি জলজ্যান্ত মানুষ বা যেকোনো বস্তুকে ম্যাজিসিয়ান উধাও করে দেয়।কিন্তু একটি দ্বীপ উধাও হয়ে যাওয়ার বিষয়টি রীতিমতো অবিশ্বাস্য।এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি ঘটেছিলো মেক্সিকোর একটি দ্বীপে।দ্বীপটির নাম Isla Barmuja. মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী এই দ্বীপটি ১৭০০ সালে প্রথম মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।জনমানবশূন্য এই দ্বীপটিতে অনুসন্ধানের জন্য মেক্সিকো নেভি ১৯৯৭ সালে একটি টিম পাঠায়।কিন্তু তারা ম্যাপে উল্লেখিত অবস্থানে পৌছে দেখে সেখানে শুধুই সমুদ্র কোনো দ্বীপ নেই।৮০ কিঃমিঃ দীর্ঘ এই দ্বীপটি রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাওয়ার পিছনে অনেকেই ভূমিকম্প, আমেরিকার পারমাণবিক বিস্ফোরণসহ আরও অনেক কিছুকে দায়ি করেছেন।কিন্তু প্রকৃত রহস্য আজও উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।

৩. Earthquake Island: ২০১৩ সালে পাকিস্তানে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে ৩৯ জন মারা যায়।কিন্তু ভূমিকম্পের কিছুদিন পর পাকিস্তান নেভি একটি নতুন দ্বীপের আবিস্কার করে।১০০ মিটার লম্বা এবং ৯ মিটার চওড়া এই দ্বীপটির নাম earthquake island বা ভূমিকম্পের দ্বীপ।এই দ্বীপটির সৃষ্টি নিয়ে গবেষকগণ অনেক ব্যাখাই দিয়েছেন।সবচাইতে গ্রহনযোগ্য ব্যাখা হচ্ছে ভূমিকম্পের ফলে সমুদ্রে প্রচন্ড চাপের সৃষ্টি হয় এবং এই ছোট দ্বীপের সৃষ্টি হয়। যদিও প্রকৃত ব্যাখা এখন পর্যন্ত প্রদান করা সম্ভব হয়নি।

৪. Floating eye island: আর্জেন্টিনার parana delta তে অবস্থিত এই দ্বীপটি ২০১৬ সালে sergio nuespiller নামে একজন ফ্লিল্ম ডিরেক্টর আবিস্কার করেন।১২০ মিটার দীর্ঘ বৃত্তকার ভাসমান দ্বীপটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি নিদির্ষ্ট কক্ষপথে নির্ধারিত সময় পরপর ঘুরতে থাকে। দ্বীপটির চারিদিকে একটি সরু নালা দ্বীপটিকে মূল ভূখন্ড থেকে আলাদা করে রেখেছে।বরফশীতল এই পানির নালাটি এখানে কিভাবে সৃষ্টি হলো বা দ্বীপটিই বা নির্দিষ্ট কেন্দ্রে ঘুরছে তার ব্যাখা এখনো পাওয়া যায়নি।কারণ দ্বীপটির অবস্থান যেখানে সেখানকার জলবায়ু উষ্ণ তাই বরফ শীতল পানি হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই ওখানে আর পৃথিবীর কোনো ভাসমান দ্বীপই আবর্তন করে না। এই দ্বীপের রহস্য এখনও অজানাই রয়ে গেছে।

৫. Easter Island:
দক্ষিণ পূর্ব প্রশান্ত সাগরে দেখা মিলবে একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের।নাম তার  Easter Island. চিলির অন্তর্গত এ দ্বীপটিতে নামলেই দেখতে পারবেন দাঁড়িয়ে আছে ৮৭৭ টি মূর্তি এবং রাপা নুই নামে বিচ্ছিন্ন এক পলিনেশিয়ান গোত্রের।অদ্ভূত ব্যাপার হচ্ছে মূর্তিগুলোর মাথা মাটির উপরে আর বাকি অংশ মাটির নিচে অবস্থিত।কারা বানিয়েছিলো এ মূর্তি? কেনোই বা ৮০০ বছর আগে এ মূর্তিগুলো বানিয়েছিলো? গড়ে ৯২ টন ওজনের এই মূর্তিগুলো কিভাবে ৮০০ বছর আগে ১৮ কিঃমিঃ নিয়ে আসা হয়েছিলো কোনো চাকা চালিত বাহন ছাড়া। স্থানীয় অধিবাসীদের মতে মূর্তিগুলো তাদের ধর্মীয় রীতির অংশ।এ মূর্তিগুলো প্রাচীন রাপা নুই গোত্রের ক্ষমতা নির্দেশ করে। হার্ভাড মেডিকেল ইনস্টিটিউটের একজন প্রফেসরের মতে মূর্তিগুলো বানানো হয়েছিলো কুষ্ঠ রোগ থেকে বাঁচার জন্য। মূর্তিগুলোর অবস্থান বিষয়ে গবেষকগণ বলেন তখনকার অধিবাসীরা মনে করতো তারা তাদের দ্বীপ রক্ষার জন্য মূর্তিগুলোর মুখ রেখেছিলো দ্বীপের দিকে। আসল রহস্য জানা না গেলেও প্রাচীন এক সভ্যতার অসাধারণ স্থাপত্য দেখতে গবেষক ও পর্যটকেরা ভিড় করেন এই দ্বীপে।

আজ রহস্যজালের রহস্য জাহাজের যাত্রা এখানেই সমাপ্ত হলো। পরবর্তী ভিডিওতে আমরা আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিবো আরো কিছু ব্যাখাতিত রহস্যের।সবাই সুস্থ ও নিরাপদে থাকুন।

Related Post

Leave a Comment