আপনার মহাজাগতিক দ্বিতীয় স্বত্তা

কেমন হতো যদি আপনার মতো দেখতে হুবুহু আরেকজন মানুষ থাকতো, পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে। আপনারই এমন একটা ভার্সন সে যেকোন কিছু হতে পারে। কল্পনা করুণ আপনার অপর ভার্সনটি একজন ব্যাটম্যান। অথবা কল্পনা করুন সে ইউনাইটেড স্টেটসের প্রেসিডেন্ট। এরকম অনেক অদ্ভুদ কিছু হতে পারে মাল্টিভার্স বা বহু-মহাবিশ্বে। তো মাল্টিভার্স কী? এসবের কোন কিছু কি সম্ভব? এবং আপনি কি আপনার অন্য সংস্করণের সাথে দেখা করতে পারবেন? এটাই আমাদের আজকের পর্ব; কেমন হতো আপনার কসমিক টুইন থাকলে।

তো প্রশ্ন হচ্ছে কসমিক টুইন বা মহাজাগতিক জমজ বিষয়টা কী? কসমিক টুইন হচ্ছে এরক্ম কেউ যে অবিকল আপনারই মতো দেখতে। তাদের থাকে একই মলিকিউল, ব্লাড সেল এবং প্রোটিন কিন্তু তারা সম্পূর্ণ আলাদা জীপন যাপন করে। শুধুমাত্র আলাদা জীবন যাপনই নয়, তারা বাস করে আলাদা মহাবিশ্বে। কিন্তু মহাবিশ্বতো একটাই। ওয়েট, আমরা ভাবি মহাকাশে মহাবিশ্বই বোধহয় একমাত্র সব। কিন্তু প্রকৃত অর্থে, মহা্বিশ্ব শুধুমাত্র সেই অংশ যা আমরা পর্যবেক্ষণ করতে পারি। পর্যবেক্ষনযোগ্য মহাবিশ্বের ব্যাসার্ধ আনুমানিক প্রায় ৪৭ বিলিয়ন আলোক বর্ষ। যার অর্থ হচ্ছে এটা ঠিক আমরা যত দূর দেখতে পারি। কিন্তু মহাবিশ্ব প্রতিনিয়তই বর্ধিত হচ্ছে। তো কে বলতে পারে এর বাইরে আর কি কি আছে? মহাবিশ্ব অসীম, এই অসীমতায় মধ্যে রয়েছে অনেক অসীম সম্ভাবনা। ১৯৫০ এর দশক থেকে পদার্থবীদগন বলে আসছেন আমাদের মহাবিশ্বে্র বাইরেও অন্য মহাবিশ্ব থাকার সম্ভাবনার কথা। কেমন সেই মহাবিশ্ব, আমাদের মহাবিশ্বের সাথে সেই মহাবিশ্বের পার্থক্য কিরকম এ নিয়ে অনেক থিওরি রয়েছে। তন্মোধ্যে একটি হচ্ছে বাবল ইউনিভার্স যেটা অনন্ত ইনফ্লেশনের কথা বলে। সহজ ভাষায় বলতে হলে, এই থিওরি মহাকাশ এবং সময় জুড়ে একাধিক বিগব্যাং সংঘটিত হবার কথা বলে। আমাদের মহাবিশ্বে বিগব্যাং ঘটেছিলো ১৩ বিলিয়ন বছর আগে। কিন্তু সমগ্র মহাকাশে আরো একাধিক বিগব্যাং ঘটে থাকতে পারে। এর ফলে তৈরি হয়ে থাকতে পারে আরো অন্য মহাবিশ্বের এবং সেই মহাবিশ্ব থেকে তৈরী হতে পারে আরো নতুন মহাবিশ্বের। কোন পৃথবী হয়তো শাসন করছে কুকুর, কোন পৃথবীতে হয়তো সব প্রানী বসবাস করছে পানির নীচে। আবার কোন পৃথবী হয়তো রয়েছে আমাদের মতোই। আমরা নিশ্চিত ভাবে সেই সব মহাবিশ্বের অস্তিত্বের কথা বলতে পারিনা কারণ সেগুলো আমাদের থেকে অনেক অনেক দূরে অবস্থিত তাই আমরা তাদের দেখতে পাইনা। এজন্য আমরা ঠিক জানি না। অন্য আরেক থিওরিতে বলা হয় আমাদের মহাকাশ আমরা যতোটা বড় ভাবি তার চেয়ে বহুগুন বিশাল হবার কথা।

অন্য মহাবিশ্বগুলো হতে পারে আমাদের মতোই কিংবা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আপনার শুধু মাত্র জমজ একজন নয় তিনজন বা চারজন কসমিক টুইন থাকতে পারে। সংখ্যাটা ১০০ও হতে পারে, প্রতিজন ভিন্ন ভিন্ন মহাবিশ্বে। একজন হতে পারে ভালো, অন্যজন হতে পারে দূষ্ট। আপনার কসমিক টুইন ভার্চুয়ালি যেকোন কিছু হতে পারে। এমনকি তারা মানুষ নাও হতে পারে। তারা হতে পারে এনার্জি বল, অথবা গাছ অথবা কোন পশু। তবে এই সমস্ত মহাজাগতিক যমজদের সাথে, আরও অনেক মহাবিশ্ব রয়েছে যা কেবল তাদের সিদ্ধান্ত থেকে উদ্ভূত হতে পারে। একে বলা হয় ডটারস ইউনিভার্স। থিওরিটি হচ্ছে, আপনার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত ভিন্ন পৃথবীতে ভিন্ন ফলাফল তৈরী করতে পারে। যেমন ধরুন, আপনি হেটে হেটে অফিসে যাচ্ছেন। দুইটা রাস্তা আছে যাওয়ার জন্য। আজ আপনার একটু টায়ার্ড লাগছে তাই আপনি শর্টকাট রাস্তাটি বেছে নিলেন। আপনার মহাবিশ্বে আপনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন সঠিক সময়ে কাজে উপস্থিত হবার জন্য। কিন্তু অন্য মহাবিশ্বে আপনার কসমিক টুইন বেছে নিলো লং রুটটি। সে রাস্তায় ৫ ডলার কুড়িয়ে পেলো। সে একটি লটারি কিনলো এবং সে এখন মিলিনিয়ার হয়ে গেলো। তো ভিন্ন কোন মহাবিশ্বে আপনার অন্য আরেক ভার্সন রয়েছে, সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবন যাপন করছে। ব্যাপারটা কেমন ঠেকছে? আপনার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত সম্ভবত তৈরি করেছে আপনার সম্পূর্ণ ভিন্ন সংস্করণ সহ অন্য একটি মহাবিশ্ব। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আপনি কি অন্যান্য মহাবিশ্বে থাকা আপনার অন্য সংস্করণগুলির সাথে দেখা করতে পারবেন। থিওরি অনুযায়ী উত্তরটি “হ্যাঁ”। আপনাকে শুধু অনেক অনেক বেশী ভ্রমণ করতে হবে আর সেই মহাবিশ্বে প্রবেশের উপায় জানতে হবে। একটি গুগোলপ্লেক্সে ১ এর পরে ১০০টি শূন্য হয়। তো বুঝতেই পারছেন জার্নিটা কতো দীর্ঘ হবে। দুর্ভাগ্যবশত আপনি সম্ভবত আপনার কসমিক টুইনের সাথে দেখা করার সুযোগ পাবেন না, অন্তত এই মহাবিশ্বে। কিন্তু কে জানে, সম্ভবত এমন মহাবিশ্ব থেকে তাকতে পারেযেখানে ওয়ার্মহোলগুলি গাড়ির মতোই অ্যাক্সেসযোগ্য।  এটা অন্য আরেক গল্পের মতো শোনাচ্ছে। সম্ভবত পরের কোন গল্পে সেটা বলবো।

Related Post

Leave a Comment