গ্রীনল্যান্ড দেশের অদ্ভুত সব ব্যাপার

গ্রীনল্যান্ড নামটি শুনে যদি আপনার মনে হয় সবুজে সমারহ কোন দেশ তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন। কারণ প্রায় সাড়ে ২১ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই দেশে সবুজ প্রায় নেই বললেই চলে । আজকের ভিডিওতে আমরা জানবো গ্রীনল্যান্ড সম্পর্কে মজার কিছু তথ্য।

১। আপনি জানেন কি কেন এর নাম গ্রীনল্যান্ড হলো? 
আয়তনের দিক থেকে গ্রীনল্যান্ড পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ। দ্বীপটির চার ভাগের তিন ভাগই (৮০ শতাংশ) বরফে আচ্ছাদিত। যদি তাই হয় তাহলে এর নাম কেন “গ্রীন” ল্যান্ড রাখা হলো? বেশ! যদি এই প্রশ্নটি আপনার মাথায় এসে থাকে তাহলে আপনার জন্য থামস আপ। ইতিহাস অনুযায়ী এরিক দ্যা রেড গ্রীনল্যান্ডের নামকরণ করেন। কথিত আছে তিনি আইসল্যান্ড থেকে খুনের অপরাধে বিতারিত হয়ে গ্রীনল্যান্ডে নির্বাসিত হন এবং এর নাম গ্রীনল্যান্ড রাখেন। অনেকে মনে করেন এরিক দ্যা রেড মার্কেটিং পার্স্পেক্টিভ থেকে এর নাম গ্রীনল্যান্ড রাখেন যাতে এর নাম শুনে মানুষ এখানে প্রত্যাবর্তন করতে আগ্রহী হয়।

২। আপনি জানেন কি গ্রীনল্যান্ডে কোন উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই?
বরফের রাজ্য গ্রীনল্যান্ডে যাতায়াত ব্যবস্থা সুবিধাজনক নয়। অন্য দেশ থেকে গ্রীনল্যান্ডে সরাসরি যাতায়াতের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। গ্রীনল্যান্ডের অভ্যন্তরে রয়েছে ১৬টি বড় শহর। কিন্তু একটি শহর থেকে আরেকটি শহরে যাতায়াতের সু-ব্যবস্থা নেই। স্থানীয়রা তাদের যাতায়াতে ব্যবহার করে উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার। এক শহর থেকে আরেক শহরে যাতায়াতে তারা নিজেদের তৈরি যানবাহন ব্যবহার করে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- স্লেজ, কায়াক এবং স্নো স্যু।

৩।  আপনি জানেন কি গ্রীনল্যান্ড পৃথিবীর সবচেয়ে আত্মহত্যা প্রবণ দেশ?
স্বেচ্ছা- মৃত্যুকে বরণ করে নেওয়ায় গ্রীনল্যান্ডবাসী সারা বিশ্বে প্রথম। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপে গ্রীনল্যান্ড পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যা প্রবণ দেশ। এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য গ্রীনল্যান্ডবাসীর জন্য দুর্ভাগ্যই বটে। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গ্রীনল্যান্ডের প্রতি লাখে অন্তত ৮৩ জন্য মানুষ স্বেচ্ছা- মৃত্যুবরণের পথ বেছে নেন।

৪। আপনি জানেন কি গ্রীনল্যান্ডে সূর্যের দেখা পাওয়া খুবই দুষ্কর?
গ্রীনল্যান্ড পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপ যা উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত। ভৌগলিক অবস্হান মেরু অঞ্চলে হওয়ায় সেখানে সূর্যের দেখা পাওয়া যায় মাত্র ৩ ঘণ্টা বা তার একটু বেশি কিংবা কম সময়। ফলে সেখানকার শীতকাল বা শৈত্যপ্রবাহকাল খুব দীর্ঘ সময় হয়ে থাকে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও অন্ধকারাচ্ছন্ন এক পরিবেশ যেনো কালো চাদরের মতো ঝুলে থাকে গোটা গ্রীনল্যান্ডে।

৫। আপনি জানেন কি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ন্যাশনাল পার্ক গ্রীনল্যান্ডে অবস্থিত?
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাতীয় উদ্যান ‘ন্যাশনাল পার্ক’ গ্রীনল্যান্ডেই অবস্থিত। এর নাম ‘নর্থ-ইস্ট গ্রিনল্যান্ড ন্যাশনাল পার্ক। এখানে প্রায় ৩১০ প্রজাতির ভাস্কুলার উদ্ভিদের দেখা মেলে, যার মধ্যে ১৫ প্রজাতির উদ্ভিদ পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই। এখানে বিরল প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে মাস্ক ষাঁড়, মরু ভাল্লুক, আর্কটিক নেকড়ে, আর্কটিক খরগোশ, রেইনডিয়ার এবং তুষারময় পেঁচা। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পদেও গ্রীনল্যান্ড পৃথিবীখ্যাত। এখানকার সাগর উপকূলে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় হুডেড ও গ্রে শিলদের।

৬। আপনি জানেন কি গ্রীনল্যান্ডে মধ্যরাতের সূর্যের দেখা পাওয়া যায়?
রাত ৩টা, কিন্তু চোখের সামনে জ্বলজ্বল করছে সূর্য। অবাক হচ্ছেন! এটা গ্রীনল্যান্ডের বিস্ময়। সারা বছর বরফে ঢাকা থাকলেও গ্রীষ্মে বরফ কেটে গেলে দেশটির রূপ পাল্টে যায়। এমন ঘটনা যে কেবল উত্তর মেরু অঞ্চলেই ঘটে তা নয়, দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের অনেকটা অংশজুড়ে গ্রীষ্মে একটা নির্দিষ্ট সময় আক্ষরিক অর্থেই সূর্য ডুবতে দেখা যায় না। অভুত হলেও সত্য যে, তখন ২৪ ঘণ্টা সূর্য আলোরিত হয়। দিন-রাত তখন সমান থাকে।

Related Post

Leave a Comment