স্লিপিং পিল কিভাবে কাজ করে

রাতে ঘুম না আসলে বা নিরবিচ্ছিন্ন ঘুমের জন্য আমরা স্লিপিং পিল ব্যবহার করে থাকি। বেশির ভাগ স্লিপিং পিল নার্ভাস সিস্টেমকে শান্ত করে তারপর চোখে ঘুম নিয়ে আসে।কিন্তু স্লিপিং পিল কিভাবে চোখে ঘুম নিয়ে আসে? স্লিপিং পিল ব্রেনের Frontal lobe এ কাজ করে থাকে। ব্রেনের এই অংশটি শরীরকে উদ্বেগ ও উত্তেজনামুক্ত রাখে।Frontal lobe এর কারণে নির্দিষ্ট সময়ে শরীরে শিথিলতা আসে এবং গভীর ঘুম এসে পড়ে। কিন্তু এই অংশটি যখন ঠিকভাবে কাজ না করে তখনই ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি হয়।তখনই আমরা স্লিপিং পিল নামক ছোট ঔষধগুলো গ্রহন করতে শুরু করি এবং ধীরে ধীরে স্লিপিং পিলে এতোটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়ি যে এটা ছাড়া আমাদের ঘুমই আসেনা। কিন্তু ছোট একটি ট্যাবলেটের কি এমন ক্ষমতা থাকতে পারে?

 জটিল এই বিষয়টিকে সহজভাবে উপস্থাপন করা হবে আজকের ভিডিওতে।দেখতে থাকুন ভিডিওটি।ভিডিও শুরু করার আগে আমাদের চ্যানেলটি এখনও সাবস্ক্রাইব না করে থাকলে এখনই সাবস্ক্রাইব করে ফেলুন আর নতুন ভিডিওর আপডেট নোটিফিকেশন পেতে বেল আইকনটি ক্লিক করুন। তো চলুন শুরু যাক।

১৯৬০ সালে benzodiazepines নামক ঔষধটি প্রথমবারের মত ইনসমনিয়ার ও মানসিক প্রশান্তির জন্য ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে অনেক ধরণের স্লিপিং পিল পাওয়া যায়। যে স্লিপিং পিলটি ব্রেনের রিসেপ্টরকে কার্যকর কর তাকে sedactive hypnotics বলে। এ স্লিপিং পিলটি মূলত মস্তিষ্কের কোষগুলোকে শান্ত করে দেয়। আরেক ধরণের স্লিপিং পিলকে melatonin বলে। melatonin হচ্ছে একটি হরমোন যেটি ব্রেনের অভ্যন্তরে তৈরি হয়।এই হরমোনটি প্রাকৃতিকভাবে রাতে কার্যকর হয়।যখন মস্তিষ্ককে এ হরমোন প্রচুর পরিমানে নিঃসরণ হয় তখন শরীরে ঘুমের অনুভূতি সৃষ্টি হয়। Melatonin সমৃদ্ধ ঘুমের ঔষধ মস্তিষ্কে প্রচুর পরিমানে melation হরমোন নিঃসরণে সহায়তা করার ফলে তাড়াতাড়ি ঘুম চলে আসে।যাদের ঘুমের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই তাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঔষধটি বেশি কার্যকর।

স্লিপিং পিল কতক্ষণ শরীরের অভ্যন্তরে কার্যকর থাকে সেটা নির্ভর করে কোন ধরণের পিল গ্রহন করা হচ্ছে তার উপর।যেমন xanax টাইপের পিলের কার্যকারিতা সাধারণত ৩ দিন হয়ে থাকে। অন্যদিকে valium পিলটি কয়েক সপ্তাহ ধরেও শরীরের অভ্যন্তরে থাকতে পারে। তবে সাধারণ স্লিপিং পিলগুলো শরীরের অভ্যন্তরে ১৬ ঘন্টা কার্যকর থাকে।

স্লিপিং পিলের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার ফলে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।যেমন এলার্জি, জ্বর, ঠান্ডা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।এক গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়মিত ১০ বছর ধরে ঘুমের ঔষধ সেবন করে তাদের স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সম্ভবনা ৮০% বেড়ে যায় এর সাথে অন্যান্য আরো জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। নিয়মিত ঘুমের ঔষধের ব্যবহারে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং মেজাজ খিটখিটে করে দেয়। তাই ইনসমনিয়া ও অন্যান্য জটিল রোগ ব্যাতীত স্লিপিং পিলের নিয়মিত ব্যবহার ত্যাগ করা উচিত।

নিরবিচ্ছিন্ন ঘুমের জন্য গবেষকগণ বিভিন্ন পদ্ধতির কথা বলেছেন, যাদের ঘুমের সমস্যা আছে তারা এগুলো অনুসরণ করতে পারেন।

১. রাতে চা বা কফি জাতীয় খাবার পরিহার করা।

২. রাতের খাবারের ২-৩ ঘন্টা পর বিছানায় যাওয়া।

৩. প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো।

৪. নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা।

আজ এ তবে এ পর্যন্তই।আগামীতে হাজির হবো নতুন কোনো ভিডিও নিয়ে।সবাই সুস্থ ও নিরাপদে থাকুন। ধন্যবাদ। 

Related Post

Leave a Comment