মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা

Truth is stranger than fictions “সত্য কল্পনার থেকেও অদ্ভুত”। মানব জনমের একটি চিরন্তন সত্য হচ্ছে মৃত্যু। অনিশ্চিত এ মৃত্যু যাত্রার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে কর্মময় জীবনের। কিন্তু মৃত্যুর পর কি হয়? মৃত্যুর পরে মানুষ যখন অনন্তপথে যাত্রা করে তখন কি কি ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়? তাদের অনুভূতিই বা কেমন থাকে? আজ আমরা আপনাদের এমন ৪ জন মানুষের কথা জানাবো যাদের মৃত ঘোষণা করার পরেও বেঁচে উঠেছে। জানাবো মৃত্যুর কাছাকাছি যাওয়ার পর তাদের অনুভূতির কথা। শক্ত হয়ে বসুন।

১. টনি সিকোরিয়াঃ
১৯৯৪ সালের এক মেঘাচ্ছন্ন দিনে টিনি সিকোরিয়া নামে একজন নিউরো সার্জন তার মায়ের সাথে ফোনে কথা বলছিলো। হঠাৎ তার উপরে বজ্রপাত হলো। তিনি মৃত মানুষের মত মাটিতে পড়ে ছিলেন এবং একজন নার্স তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু অদ্ভূত ব্যাপার হচ্ছে কিছুক্ষণ পর তিনি চোখ মেলে তাকান এবং তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন। তিনি সুস্থ হওয়ার পর বজ্রপাতের পর তার অনুভূতি জানতে চাওয়া হয়েছিলো। তিনি বলেছিলেন”বজ্রপাতের পর আমার চারিদিকে সাদা আর নীল রঙের আলোতে ভরে গিয়েছিলো। আমি হাঁটছিলাম এক রঙিন আনন্দের জগতে। অসম্ভব ভালো লাগার অনুভূতি হচ্ছিল আমার। আমি চাইছিলাম এ জগতে বাস করতে”। এরপর…… রহস্য!

২. আনিতা মুরজানিঃ
ক্যান্সারের সাথে ৪ বছর পাঞ্জা লড়ার পর আনিতা মুরজানি ২০০৬ সালে কোমায় চলে যান এবং ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করে। কিন্তু মৃত ঘোষণার ৩০ ঘন্টা পর তিনি আবার শ্বাস প্রশ্বাস নিতে শুরু করেন। ২ দিন পর আস্তে আস্তে তার ক্যানসার সেরে যেতে থাকে। কেমায় থাকাকালীন তার অনুভূতির কথা তিনি বলেন “আমি একটি মনোমুগ্ধকর জগতে ছিলাম, যেখানে শুধুই ভালোবাসা ছিলো। আমার শারীরিক কোন ব্যাথা ছিলো না, কোনো ভয় ছিলো না। আমি খুব করে চাচ্ছিলাম অনন্তকাল এ জগতে বাস করতে”। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ জীবন যাপন শুরু করছেন। তিনি একটা বইও লিখেছেন “What if this is heaven” চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এটি খুব দুর্লভ একটি কেস।

৩. আর্নেস্ট হেমিংওয়েঃ
বিশ্ববিখ্যাত নোবেলবিজয়ী এ লেখকও একবার মৃত্যুর খুব কাছাকাছি গিয়েছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় হেমিংওয়ে আমেরিকার রেডক্রসের হয়ে ইটালিতে কর্মরত ছিলেন। একদিন এক মর্টার বোম বিস্ফোরণে তিনি খুব বাজে ভাবে আহত হন। ক্যাম্পের ডাক্তাররা পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি তখনকার সময়ে অনুভূতি প্রসঙ্গে লেখেন “আমার মনে হচ্ছিল আমার আত্মা আমার দেহ থেকে বের হয়ে যাচ্ছে কিন্তু আমি কোনো কষ্ট পাচ্ছিলাম না। আমার আত্মা এমনভাবে আমার দেহ থেকে বের হচ্ছিল যেমন করে পকেট থেকে রুমাল বের করা হয়। সে আরও বলেন “আমি দেখলাম আমার আত্মা কিছুক্ষণ ঘুরে বেড়ালো, তারপর আবার আমার শরীরে প্রবেশ করলো।” এরপর……… রহস্য!

৪. মেরী সি নিলঃ
২০০০ সালে চিলিতে কায়কিং করার সময় মেরি সি নিল নামে একজন ডাক্তার পানিতে ডুবে যায়।তাকে উদ্ধার করার পর তার হার্টবিট না পাওয়ার কারণে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।কিন্তু মিরাকল বলে একটা ব্যাপার সবসময়ই থাকে তাই প্রায় ১.৩০ মিনিট পর তিনি আবার নিঃশ্বাস নিতে শুরু করেন এবং সুস্থ হয়ে উঠেন।তিনি এক সাক্ষাৎকারে সে সময়কার অনুভূতির কথা জানান এরকম ভাবে “তখন আমার মনে হয়েছিলো আমি আমার শরীর থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলাম। তখন একটা গ্রুপ আমাকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছিলো যাদের অনেককেই আমার অপরিচিত, কেউ আবার পরিচিত। কিন্তু তাদের সান্নিধ্যে আমি অনুভূতিশূণ্য হয়ে গিয়েছিলাম। তিনি তার অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে একটা বই লেখে “7 lessons from heaven

৫. ওয়ালটার উইলিয়ামসঃ
২৬ শে ফেব্রুয়ারী ২০১৪ সালে আমেরিকার মিসিসিপি রাজ্যে ওয়ালটার উইলিয়ামস নামে ৭৪ বছর বয়স্ক একজন ব্যাক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু ডাক্তার ব্যাক্তিটির পালস চেক করে জানান ওয়ালটার মারা গেছেন। পরবর্তীতে যাবতীয় সব ফর্মালিটিস শেষ করে তাকে শেষ বিদায়ের জন্য কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে ঘটে এক অদ্ভূত ঘটনা। ওয়ালটারকে কফিনে শোয়ানোর আগে ওয়ালটার নড়াচড়া করতে লাগলেন। বিষয়টি লক্ষ করার পর তাকে আবার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সে যাত্রায় তিনি বেঁচে যান।

মৃত্যুর কাছাকাছি থেকে ফিরে আসাকে মেডিকেল টার্মে বলা হয় Lazarus Syndrome.এ অবস্থায় রোগীর পালস বা হার্টবিট কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ থাকে। যদিও এর কারণ এখনো বের করা সম্ভব হয়নি। তাই মৃত ব্যাক্তির জীবিত হয়ে ফিরে আসাটাকে মিরাকল বলে চালিয়ে দেওয়া হয়।

সবাই সুস্থ থাকুন। নিরাপদে বাসায় অবস্থান করুন। আর আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করতে ভূলবেন না।

 

Related Post

Leave a Comment