বিশ্বের ব্যাখ্যাতীত রহস্য

পৃথিবীর পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে রহস্য। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার এক কবিতায় আক্ষেপ করে বলেছিলেন “বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি”। আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যানে প্রকৃতির অনেক রহস্যের দ্বার খুলেছে আমাদের কাছে। কিন্তু ব্যাখ্যার বাইরেও কিছু ব্যাখাতিত ঘটনা আছে পৃথিবী জুড়ে যার ব্যাখা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ব্যাখাতীত সেসব ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যুক্তির বাইরের আরেকটি জগতের। আজ আমাদের ভিডিওতে এমনই ৪ টি অমিমাংসীত রহস্য নিয়ে আলোচনা করবো। তো চড়ে বসুন রহস্যজাল সিরিজের প্রথম পর্বের ট্রেনে আর ঘুরে আসুন যুক্তির বাইরের রহস্যময় জগত থেকে।

 ১. ভৌতিক জাহাজঃ
৪ ডিসেম্বর ১৮৭২ সালে আমেরিকান একটি জাহাজকে আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসতে দেখা যায়। জাহাজটির নাম The Mary Celeste. কিন্তু জাহাজটি ছিলো সম্পূর্ণ খালি। পুরো জাহাজে একটিও জীবিত প্রাণী ছিলো না। ১৮৭২ সালের ৭ নভেম্বর ১৭০১ ব্যারেল এলকোহল নিয়ে জাহাজটি নিউইয়র্ক থেকে ছেড়ে যায় ইতালির উদ্দেশ্যে। কিন্তু কোনো এক রহস্যময় কারণে জাহাজের ১০ জন নাবিকের কাউকে আর কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। জাহাজের প্রাপ্ত লগবুকের তথ্য ছিলো ৭ দিন আগের, সেখানেও কোন রকমের দুর্ঘটনার সংকেত ছিলো না। জাহাজে কোনো রক্তপাতের চিহ্ন ছিলো না, ছিলো না কোন অস্বাভাবিকতা। চুলোয় খাবার গরম হচ্ছিল, ক্যাপ্টেন ও নাবিকদের রুমও ছিলো পরিপাটি। তারপরেও হারিয়ে গেলো জলজ্যান্ত ১০ জন মানুষ। কেউ যুক্তি দিয়েছেন জলদস্যুর হামলার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, কেউ বা বলেছেন দানবাকার স্কুইডের কথা, কেউ বলেছেন এ্যালকোহলের বিষক্রিয়ার কথা। কিন্তু কোনো যুক্তিই ভেদ করতে পারেনি Mary Celeste এর রহস্য।

 ২. খুনী জলাশয়ঃ
২১ শে আগষ্ট ১৯৮৬ সালের রাতে উত্তর পশ্চিম ক্যামেরুনের Lake Nyos নামে একটি ছোট লেক কেড়ে নিয়েছিলো ১৭০০ মানুষ এবং ৩৫০০ প্রাণীর জীবন। ঐ রাতে লেকটি থেকে প্রায় ১,০০,০০০ থেকে ৩,০০,০০০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড ১০০ কিঃমিঃ প্রতি ঘন্টা বেগে নিঃসরণের ফলে আশেপাশের ২৫ কিঃমিঃ পর্যন্ত এলাকা অক্সিজেন শূণ্য হয়ে যায়।

হঠাৎ এই বিশাল পরিমান কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের রহস্য এখন পর্যন্ত উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তবে ভূতত্ত্ববীদদের মতে লেকের গভীরে একটি আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের ফলে এই দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়। কিন্তু নদী গর্ভের কোনো আগ্নেয়গিরি এতো বিপুল পরিমান কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরন করতে পারে না। তাই এ রহস্যের সমাধান করা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।

 ৩। দুর্বোধ্য পান্ডুলিপিঃ
১৯১২ সালে ইতালিতে ৫০০ বছরের পুরনো এক পান্ডুলিপি উদ্ধার করা হয়। ২৭২ পৃষ্ঠার এই পান্ডুলিপি লেখা হয়েছিলো দুর্বোধ্য ভাষায় এবং সংকেতে। বিভিন্ন চিহ্ন, মহিলাদের ছবি, জটিল কিছু চিকিৎসা বিজ্ঞানের চিত্র ছিলো এই পান্ডুলিপিতে। পান্ডুলিপিটির লেখকের নামও জানা যায়নি। উইলফিড ভয়নিচ নামক এক ব্যাক্তি পান্ডুলিপিটি সংগ্রহ করেন, তাই তার নাম অনুসারে এটিকে ভয়নিচের পান্ডুলিপিও বলা হয়ে থাকে। বহু ভাষাতত্ত্ববিদ ও গুপ্ত সংকেত গবেষক এ ভাষা নিয়ে গবেষণার করেও পান্ডুলিপির কোনো অর্থ উদ্ধার করতে পারেনি। কি ভাবছেন যে হয়ত কেউ মজা করার জন্য এরকম ভাষায় পান্ডুলিপিটি লেখেছে! তাহলে আপনাদের জন্য চমক অপেক্ষা করছে। ঐ সময়কালে পৃথিবীব্যাপী যত লিখিত ভাষা ও গুপ্তসংকেত ছিলো তার কোনটির সাথে এই ভাষাটির মিল নেই। মনে হয় যেনো অন্যগ্রহের কোনো প্রাণী এই পান্ডুলিপিটি লেখেছিলো।

 ৪. অদ্ভূত রোগঃ
১৯১৭-১৯২৮ সাল পর্যন্ত অদ্ভূত এক রোগে পৃথিবীর ৫০ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হন। রোগটির নাম The Sleeping Sickness. এ রোগের আক্রান্তরা ঘন্টার পর ঘন্টা নিশ্চলভাবে বসে থাকতো। তারা কেউ কেউ কোনো কথা বলতো না, হাসতো না, পারিপার্শ্বিক জগত সম্পর্কে তাদের কোন অনুভূতি কাজ করতো না। এক এক জন মানুষ যেনো পরিণত হয়েছিলো জীবন্ত জোম্বিতে। এ রোগে আক্রান্ত এক তৃতীয়াংশ মানুষ মারা যান। যারা বেঁচে থাকেন তারাও আর কখনো স্বাভাবিক হতে পারেনি। ১৯২৮ সালের পর এ রোগে আক্রান্ত রোগী আর পাওয়া যায়নি। কিন্তু ২০০৪ সালে চীনে ১২ বছরের একটি মেয়ে এ রোগে আক্রান্ত হয়। এ রোগের কারণ সম্পর্কে এ পর্যন্ত কিছুই জানা যায়নি। তবে চিকিৎসকদের মতে একটি বিরল প্রজাতির ভাইরাস মানুষের ব্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দেয়। এর ফলে মানুষ তার পারিপার্শ্বিক জগত সম্পর্কে হয়ে উঠে উদাসিন। মারাত্মক এই রোগটি কি আবার মহামারী আকারে দেখা দিতে পারে? উত্তর জানা নেই।

প্রকৃতি রহস্যময়তা পছন্দ করে আর মানুষ পছন্দ করে রহস্যের জাল ভেদ করে নতুন কিছু আবিষ্কারের। প্রকৃতি তাই এমন কিছু রহস্যের জন্ম দেয় বৈজ্ঞানিকভাবে যার ব্যাখা দেওয়া এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। হয়তোবা একদিন এই রহস্যগুলোর ব্যাখা দেওয়া যাবে কিংবা হয়তোবা কখনোই যাবে না। থাকুক না প্রকৃতিতে কিছু অমীমাংসিত রহস্য।

ব্যাখাতীত রহস্যের ২য় পর্ব পেতে আমাদের চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং পাশে থাকা বেল আইকনটি ক্লিক করুন। সবাই সুস্থ থাকুন। নিরাপদে ঘরে অবস্থান করুন।

Related Post

Leave a Comment